সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খিলগাঁওয়ে পল্লীমা সংসদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ‘পল্লীমা গ্রীন স্বর্ণ পদক ২০২৫’ প্রদান Logo এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছা Logo ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী Logo এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আঃ কাঃ মোঃ আশরাফুজ্জামান নিয়োগ পেলেন Logo ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে আধুনিক এনডোস্কপি ও কোলনোস্কপি পরীক্ষা চালু Logo ফরিদগঞ্জে সমাজসেবক ও সাবেক গ্রাম সরকার মো. খাজে আহমাদ মিয়াজির ইন্তেকাল Logo চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান Logo ওষুধের মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্যের আহ্বান: জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না — স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo দেশে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্কের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল Logo সুস্থ জীবন ও স্বাবলম্বিতার বার্তা নিয়ে “ন্যাচারাল ভারটেক্স”-এর কর্মশালা

ডেঙ্গুতে ২ মাসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮ শতাধিক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮
  • ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ‘মৃত্যু আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ও ডেঙ্গু শকড সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় জনমনে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মৃতের তালিকায় দুই বছরের কম বয়সের ছোট্ট শিশু, তরুণ-তরুণী, গৃহবধূ এমনকি চিকিৎসকও রয়েছেন। এ সময়ে সাড়ে ৮ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।

গত ৫০ দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেছে মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাননি। যখন তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তখন অনেক বিলম্ব হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা করিয়েও তাদের মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। শুধু তাই

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মৃতদের অনেকেই এর আগেও এক বা একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসক কিংবা নিকটের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে যে কয়েকজন মারা গেছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে রোগতত্ত্ববিদরা আলাপ করে জেনেছেন, তারা প্রথমে নিজেরা বাসাতে অবস্থান করে হাতুড়ে ডাক্তার কিংবা পাড়া-মহল্লার ফার্মাসিস্টদের পরামর্শে ওষুধ খেয়েছেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে ডেঙ্গু জ্বরের সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। তাই জ্বর হলে নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কি না, তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বের করতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয় তা প্রায় সবার জানা আছে। ডেঙ্গু জ্বর হলে তীব্র জ্বর, মাংসপেশী ও হাড়ে ব্যথা হয়। এ ছাড়া কোথায় কোথায় ডেঙ্গু মশার জন্ম হয়, তা-ও সবার জানা। কিন্তু সব জেনেও অনেকেই অসচেতন। অনেকে নিজ বাড়ির আঙিনায়, ফুলের টব, ফ্রিজ ও এসিতে জমে থাকা পানি না ফেলে জমিয়ে রাখেন। তাই সেখানে এডিস মশা জম্মে।’ এ সময় তিনি বলেন, মানুষের অভ্যাস দূর করা খুব সহজ কাজ নয়।

ডা. সাবরিনা জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মূল সচেতনতা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদেরকেই নিতে হবে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট ৯৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে জানুয়ারিতে ২৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন, মার্চে ৫ জন, এপ্রিলে ১৪, মে মাসে ৩৫, জুনে ২৬৭ ও ২৫ জুলাই পর্যন্ত ৫৯০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে মোট আটজন মারা গেছেন। মৃতরা হলেন নার্গিস বেগম (৪৩), ফারজানা আক্তার (৩৪), রোজলিন বৈদ্য (৩১), সেজুতি (২৬) আরইয়ান (১ বছর ৭ মাস) হিমু (৮), তাহমিদ (৯) ও ডা. ফয়সাল বিল্লাহ (২৭)।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খিলগাঁওয়ে পল্লীমা সংসদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ‘পল্লীমা গ্রীন স্বর্ণ পদক ২০২৫’ প্রদান

ডেঙ্গুতে ২ মাসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮ শতাধিক

আপডেট সময় : ০৭:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ‘মৃত্যু আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ও ডেঙ্গু শকড সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় জনমনে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মৃতের তালিকায় দুই বছরের কম বয়সের ছোট্ট শিশু, তরুণ-তরুণী, গৃহবধূ এমনকি চিকিৎসকও রয়েছেন। এ সময়ে সাড়ে ৮ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।

গত ৫০ দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেছে মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাননি। যখন তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তখন অনেক বিলম্ব হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা করিয়েও তাদের মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। শুধু তাই

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মৃতদের অনেকেই এর আগেও এক বা একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসক কিংবা নিকটের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে যে কয়েকজন মারা গেছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে রোগতত্ত্ববিদরা আলাপ করে জেনেছেন, তারা প্রথমে নিজেরা বাসাতে অবস্থান করে হাতুড়ে ডাক্তার কিংবা পাড়া-মহল্লার ফার্মাসিস্টদের পরামর্শে ওষুধ খেয়েছেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে ডেঙ্গু জ্বরের সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। তাই জ্বর হলে নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কি না, তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বের করতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয় তা প্রায় সবার জানা আছে। ডেঙ্গু জ্বর হলে তীব্র জ্বর, মাংসপেশী ও হাড়ে ব্যথা হয়। এ ছাড়া কোথায় কোথায় ডেঙ্গু মশার জন্ম হয়, তা-ও সবার জানা। কিন্তু সব জেনেও অনেকেই অসচেতন। অনেকে নিজ বাড়ির আঙিনায়, ফুলের টব, ফ্রিজ ও এসিতে জমে থাকা পানি না ফেলে জমিয়ে রাখেন। তাই সেখানে এডিস মশা জম্মে।’ এ সময় তিনি বলেন, মানুষের অভ্যাস দূর করা খুব সহজ কাজ নয়।

ডা. সাবরিনা জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মূল সচেতনতা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদেরকেই নিতে হবে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট ৯৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে জানুয়ারিতে ২৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন, মার্চে ৫ জন, এপ্রিলে ১৪, মে মাসে ৩৫, জুনে ২৬৭ ও ২৫ জুলাই পর্যন্ত ৫৯০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে মোট আটজন মারা গেছেন। মৃতরা হলেন নার্গিস বেগম (৪৩), ফারজানা আক্তার (৩৪), রোজলিন বৈদ্য (৩১), সেজুতি (২৬) আরইয়ান (১ বছর ৭ মাস) হিমু (৮), তাহমিদ (৯) ও ডা. ফয়সাল বিল্লাহ (২৭)।