সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দখল-দূষণের খাল ফিরল প্রাণে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের Logo বগুড়ায় এসেনসিয়াল ড্রাগসে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগ Logo স্বাস্থ্যসেবায় নতুন জোট: ইবনে সিনা–রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির চুক্তি” Logo জুরাইনে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ: ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদাজিয়ার সমাধিতে এসেনসিয়াল ড্রাগস শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সংসদের শ্রদ্ধা Logo তামাকের ছোবলে বছরে ২ লাখ অকালমৃত্যু Logo গুম-খুন ও জুলাইয়ে শহীদ-আহত পরিবারের ৭৪ জনের চাকরি Logo উত্তরণ ক্রীড়া সংসদের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী Logo কাদের গনি চৌধুরীকে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক নিয়োগে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন Logo ধোলাইপাড়ে বিভিন্ন ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন

সরকার নির্ধারণ করবে ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম, মানতে হবে কোম্পানিগুলোকে

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আজীবন লালিত স্বপ্ন নতুনভাবে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আগের ১৫৯টি থেকে বাড়িয়ে এখন ২৯৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ এই তালিকায় যুক্ত হলো। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের বিষয়টি হলো—এই ২৯৫টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) এখন থেকে সরাসরি সরকার নির্ধারণ করে দেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর সুযোগ নিয়ে গত কয়েক দশকে অন্য ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ ওষুধের বাজারের সেই একাধিপত্য ও বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার ২৯৫টি ওষুধ দিয়েই প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব। এর ফলে সাধারণ রোগীদের পকেটের ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানসম্মত ওষুধের প্রাপ্যতাও নিশ্চিত হবে। ওষুধকে বিলাসী পণ্য নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হলো।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ঔষধ নীতি

১৯৮২ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাত ধরে যে ঐতিহাসিক জাতীয় ঔষধ নীতি তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তকে তারই আধুনিক পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বল্পমূল্যে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন হয়, যার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই নীতির কারণে বাংলাদেশে ওষুধের দাম শুধু সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আসেনি, বরং বিশ্বের ১৪৭টির মতো দেশে এখন ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

জাতীয় ওষুধ নীতি, ১৯৮২ সালের ১২ জুন অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়। এর আগে পর্যন্ত ১৯৪০ সালের ওষুধ আইন এবং ১৯৪৬ সালের বেঙ্গল ওষুধ রুল এবং ১৯৭০ সালের বেঙ্গল ওষুধ রুল (সংশোধিত) চালু ছিল। এর আগে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি ওষুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এ কারণে সাধারণ রোগের ওষুধ থেকে থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ওষুধ নীতির কারণে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদন শুরু হয়, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসে, বাংলাদেশ ক্রমেই ওষুধের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে শুরু করে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দখল-দূষণের খাল ফিরল প্রাণে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের

সরকার নির্ধারণ করবে ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম, মানতে হবে কোম্পানিগুলোকে

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় হ্রাসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আজীবন লালিত স্বপ্ন নতুনভাবে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আগের ১৫৯টি থেকে বাড়িয়ে এখন ২৯৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও ১৩৬টি ওষুধ এই তালিকায় যুক্ত হলো। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের বিষয়টি হলো—এই ২৯৫টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) এখন থেকে সরাসরি সরকার নির্ধারণ করে দেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর সুযোগ নিয়ে গত কয়েক দশকে অন্য ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গিয়েছিল। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ ওষুধের বাজারের সেই একাধিপত্য ও বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার ২৯৫টি ওষুধ দিয়েই প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব। এর ফলে সাধারণ রোগীদের পকেটের ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি মানসম্মত ওষুধের প্রাপ্যতাও নিশ্চিত হবে। ওষুধকে বিলাসী পণ্য নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হলো।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ঔষধ নীতি

১৯৮২ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাত ধরে যে ঐতিহাসিক জাতীয় ঔষধ নীতি তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তকে তারই আধুনিক পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বল্পমূল্যে মানসম্মত ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন হয়, যার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই নীতির কারণে বাংলাদেশে ওষুধের দাম শুধু সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আসেনি, বরং বিশ্বের ১৪৭টির মতো দেশে এখন ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।

জাতীয় ওষুধ নীতি, ১৯৮২ সালের ১২ জুন অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়। এর আগে পর্যন্ত ১৯৪০ সালের ওষুধ আইন এবং ১৯৪৬ সালের বেঙ্গল ওষুধ রুল এবং ১৯৭০ সালের বেঙ্গল ওষুধ রুল (সংশোধিত) চালু ছিল। এর আগে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি ওষুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এ কারণে সাধারণ রোগের ওষুধ থেকে থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ওষুধ নীতির কারণে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদন শুরু হয়, যার ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসে, বাংলাদেশ ক্রমেই ওষুধের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে শুরু করে।