দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন চুক্তি(Implementation Agreement) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখা) ড. মো. মোকছেদ আলী, এনডিসি এবং চীন সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর মি. সং ইয়াং (Song Yang) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. মি. ইয়াও ওয়েনসহ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং চীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর বগা ফেরিঘাটের ভাটিতে নির্মিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার লাখো মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য বগা ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরশীল। সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত হবে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ।
প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ প্রকল্পের মধ্যে ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতু এবং ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মূল সেতু ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের অর্থায়ন অনুদান হিসেবে প্রদান করবে চীন সরকার। অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সেতুর বিস্তারিত নকশা (Detailed Design) প্রণয়ন ও চূড়ান্তকরণের কাজ সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
যাতায়াত ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, পণ্য পরিবহন হবে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সেতু।
এম এম মেছবাহ উদ্দিন খান 













