সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দখল-দূষণের খাল ফিরল প্রাণে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের Logo বগুড়ায় এসেনসিয়াল ড্রাগসে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগ Logo স্বাস্থ্যসেবায় নতুন জোট: ইবনে সিনা–রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির চুক্তি” Logo জুরাইনে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ: ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদাজিয়ার সমাধিতে এসেনসিয়াল ড্রাগস শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সংসদের শ্রদ্ধা Logo তামাকের ছোবলে বছরে ২ লাখ অকালমৃত্যু Logo গুম-খুন ও জুলাইয়ে শহীদ-আহত পরিবারের ৭৪ জনের চাকরি Logo উত্তরণ ক্রীড়া সংসদের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী Logo কাদের গনি চৌধুরীকে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক নিয়োগে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন Logo ধোলাইপাড়ে বিভিন্ন ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন

আমার রাজনীতি শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য: শেখ হাসিনা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮
  • ৮০৭ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার রাজনীতি দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য। তাদের ভাগ্য যেদিন গড়তে পারবো, সেদিন নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।’

শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবা সারাটা জীবন বাংলার মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের জীবনে পরিবর্তন আনার, ক্ষুধার হাত থেকে মুক্ত করার, শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার— সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আমি কাজ করছি। আমার জীবনের এই একটাই লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘নানা ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। কিন্তু আমি একটা লক্ষ্য নিয়েই চলেছি— আমার বাবার স্বপ্ন আমাকে পূরণ করতেই হবে।’

বক্তৃতার শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মনিহার আমায় নাহি সাজে..।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই আমার নেই।’

‘এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এদেশের জনগণকে’, বলেন তিনি।

দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই হয়ে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের জনগণ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। ২১ বছর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের সরকারের উচ্চ পদে চাকরি দিয়েছিল। আমরা ট্রাইব্যুনাল করে সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলুষমুক্ত হয়েছে। এই অপরাধীদের যখন আমরা বিচারের মুখোমুখি করতে পেরেছি তখনই যেন আমাদের উন্নয়নের দ্বার খুলে যায়— এটাই আমার উপলব্ধি।’

নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয় একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা এটা আরও কমাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ও ভারতের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

গণসংবর্ধনার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উন্নয়নের ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির পক্ষ থেকে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রকাশনা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে একটি অভিনন্দনপত্র পড়ে শোনান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল নামে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এ উদ্যানে যোগ দেন। ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে আয়োজিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দখল-দূষণের খাল ফিরল প্রাণে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের

আমার রাজনীতি শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য: শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার রাজনীতি দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য। তাদের ভাগ্য যেদিন গড়তে পারবো, সেদিন নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।’

শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবা সারাটা জীবন বাংলার মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের জীবনে পরিবর্তন আনার, ক্ষুধার হাত থেকে মুক্ত করার, শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার— সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আমি কাজ করছি। আমার জীবনের এই একটাই লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘নানা ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। কিন্তু আমি একটা লক্ষ্য নিয়েই চলেছি— আমার বাবার স্বপ্ন আমাকে পূরণ করতেই হবে।’

বক্তৃতার শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মনিহার আমায় নাহি সাজে..।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই আমার নেই।’

‘এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এদেশের জনগণকে’, বলেন তিনি।

দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই হয়ে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের জনগণ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। ২১ বছর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের সরকারের উচ্চ পদে চাকরি দিয়েছিল। আমরা ট্রাইব্যুনাল করে সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলুষমুক্ত হয়েছে। এই অপরাধীদের যখন আমরা বিচারের মুখোমুখি করতে পেরেছি তখনই যেন আমাদের উন্নয়নের দ্বার খুলে যায়— এটাই আমার উপলব্ধি।’

নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয় একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা এটা আরও কমাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ও ভারতের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

গণসংবর্ধনার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উন্নয়নের ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির পক্ষ থেকে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রকাশনা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে একটি অভিনন্দনপত্র পড়ে শোনান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল নামে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এ উদ্যানে যোগ দেন। ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে আয়োজিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।