সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অসংখ্য হাফেজ গড়ার কারিগর হাফেজ মো. রুহুল আমিন আর নেই Logo সিধুচী হিযবুল্লাহ মহিলা আলিম মাদ্রাসায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত Logo বরিশালে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ম্যাগনেসা লিডারশিপ কনফারেন্স Logo শিক্ষা উন্নয়নে নতুন দায়িত্বে ইসমাইল তালুকদার খোকন, প্রতিমন্ত্রী হাবিবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা Logo বর্ণমালা আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- আসাদুল হাবিব দুলু এমপি Logo মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে মুগদায় বিক্ষোভ মিছিল; অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব Logo চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রো-ভিসিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ, হিলবটম কলোনী Logo দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চুক্তি স্বাক্ষর Logo মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি মনোনীত

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা

  • মেছবাহ উদ্দিন
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩০ বার পড়া হয়েছে

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৯৭ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত সদস্যদের নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত। এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। সময়ের প্রয়োজনে আইনটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ সংশোধন আনা হয় ২০১৬ সালে।

আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। একজন এমপি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা।

পরিবহন খাতে একজন সংসদ সদস্য মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাতা পান। এ অর্থের মধ্যে জ্বালানি ব্যয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যও নির্দিষ্ট কিছু ভাতা রয়েছে। এর মধ্যে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়। বিবিধ ব্যয় ভাতা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নির্ধারিত।

সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই শর্তে পুনরায় আরেকটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বিধান। সংসদের অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা দেওয়া হয়। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা প্রাপ্য। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা পাওয়া যায়।

সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। আবার সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার একটি বীমা সুবিধা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এ বীমা কার্যকর হয়।

এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন। নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী এ তহবিল ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ প্রদান করা হয়।

আইনে আরও উল্লেখ আছে, সংসদ সদস্যরা যে সব ভাতা গ্রহণ করেন, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসংখ্য হাফেজ গড়ার কারিগর হাফেজ মো. রুহুল আমিন আর নেই

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৯৭ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত সদস্যদের নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত। এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। সময়ের প্রয়োজনে আইনটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ সংশোধন আনা হয় ২০১৬ সালে।

আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। একজন এমপি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা।

পরিবহন খাতে একজন সংসদ সদস্য মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাতা পান। এ অর্থের মধ্যে জ্বালানি ব্যয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়।

ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যও নির্দিষ্ট কিছু ভাতা রয়েছে। এর মধ্যে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়। বিবিধ ব্যয় ভাতা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নির্ধারিত।

সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই শর্তে পুনরায় আরেকটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বিধান। সংসদের অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা দেওয়া হয়। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা প্রাপ্য। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা পাওয়া যায়।

সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। আবার সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার একটি বীমা সুবিধা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এ বীমা কার্যকর হয়।

এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন। নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী এ তহবিল ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ প্রদান করা হয়।

আইনে আরও উল্লেখ আছে, সংসদ সদস্যরা যে সব ভাতা গ্রহণ করেন, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।