সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ফরিদগঞ্জে সমাজসেবক ও সাবেক গ্রাম সরকার মো. খাজে আহমাদ মিয়াজির ইন্তেকাল Logo চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান Logo ওষুধের মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্যের আহ্বান: জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না — স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo দেশে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্কের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল Logo সুস্থ জীবন ও স্বাবলম্বিতার বার্তা নিয়ে “ন্যাচারাল ভারটেক্স”-এর কর্মশালা Logo দীর্ঘদিন পর মিলনমেলা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৪-২০০৫ সেশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত Logo ইডিসিএল পরিদর্শনে ঔষধ প্রশাসনের নতুন মহাপরিচালক: গুণগত মান নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা Logo সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর মমতাময়ী মা বেগম জেবুন্নেছা ইন্তেকাল করেছেন Logo নবনিযুক্ত ওয়াক্ফ প্রশাসককে হামদর্দ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ফুলেল শুভেচ্ছা Logo রাজনীতি ও গণমাধ্যমে জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

দেশে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্কের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম ও জলাতঙ্কের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Essential Drugs Company Limited (ইডিসিএল)। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের টিকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. সামাদ মৃধা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্ক এবং সাপের কামড় বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে সরকারের কাছে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইডিসিএল সূত্র জানায়, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্প চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

সামাদ মৃধা বলেন, বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। দেশীয় উৎপাদন শুরু হলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত টিকার তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে সরকারকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ৯ মে পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা নিশ্চিত না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার কিছুটা সংকট রয়েছে। প্রতি বছর অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপের কামড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যান।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন ও রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। Asian Development Bank (এডিবি)-এর অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এ কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন গবেষণা, বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন এবং জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই সক্ষম হবে না, বরং আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে সমাজসেবক ও সাবেক গ্রাম সরকার মো. খাজে আহমাদ মিয়াজির ইন্তেকাল

দেশে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্কের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম ও জলাতঙ্কের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Essential Drugs Company Limited (ইডিসিএল)। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের টিকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. সামাদ মৃধা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্ক এবং সাপের কামড় বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে সরকারের কাছে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইডিসিএল সূত্র জানায়, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্প চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

সামাদ মৃধা বলেন, বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। দেশীয় উৎপাদন শুরু হলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত টিকার তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে সরকারকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ৯ মে পর্যন্ত দেশে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা নিশ্চিত না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার কিছুটা সংকট রয়েছে। প্রতি বছর অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপের কামড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যান।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন ও রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। Asian Development Bank (এডিবি)-এর অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এ কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন গবেষণা, বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন এবং জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হবে। ২০৩২ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই সক্ষম হবে না, বরং আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।