ঔষধের গুণগত মান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা: আলমগীর হোসেন।
বুধবার (০৬ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ সরকারি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-এর ঢাকা কারখানা আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এই নির্দেশনা দেন। গত ২৮ এপ্রিল মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কারখানা পরিদর্শন।
পরিদর্শনকালে মহাপরিচালকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আঃ সামাদ মৃধা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রধান কার্যালয়) ড. মো. আকতার হোসেন এবং পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সরেজমিনে উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ
মহাপরিচালক ইডিসিএল-এর উৎপাদন ইউনিট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল (মান নিয়ন্ত্রণ) ল্যাবরেটরি, আধুনিক গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ঔষধ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে হাইজিন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ঔষধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ও যোগ্য জনবল নিয়োগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিন দফা বিশেষ নির্দেশনা
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক তিন দফা বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন:
১. উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
২. কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মহাপরিচালক মোহা: আলমগীর হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, “জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ প্রস্তুতকরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”
আসছে অ্যান্টিভেনম ও ডেঙ্গু ভ্যাকসিন
পরিদর্শনকালে ইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা কারখানার সন্নিকটে অত্যাধুনিক ‘স্টেট অফ আর্ট’ প্রযুক্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে উৎপাদন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আশার কথা হলো, ইডিসিএল গোপালগঞ্জ কারখানায় দেশের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম এবং হাম-রুবেলাসহ র্যাবিস ও ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বগুড়া কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খুলনা প্লান্টে কার্টন উৎপাদন সুবিধাও যুক্ত হতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারের ঔষধ চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিব মোহা: আলমগীর হোসেনকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন সংশ্লিষ্ট খাতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 















https://shorturl.fm/7sbEq
https://shorturl.fm/etjVp
https://shorturl.fm/plH5b
https://shorturl.fm/ObybS
https://shorturl.fm/DEcEM
https://shorturl.fm/7JWh3
https://shorturl.fm/j6u0c
https://shorturl.fm/BxIP8
https://shorturl.fm/0K74Z
https://shorturl.fm/Ia6XP
https://shorturl.fm/UrTB9
https://shorturl.fm/rh8F2