সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দখল-দূষণের খাল ফিরল প্রাণে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের Logo বগুড়ায় এসেনসিয়াল ড্রাগসে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগ Logo স্বাস্থ্যসেবায় নতুন জোট: ইবনে সিনা–রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির চুক্তি” Logo জুরাইনে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ: ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদাজিয়ার সমাধিতে এসেনসিয়াল ড্রাগস শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ সংসদের শ্রদ্ধা Logo তামাকের ছোবলে বছরে ২ লাখ অকালমৃত্যু Logo গুম-খুন ও জুলাইয়ে শহীদ-আহত পরিবারের ৭৪ জনের চাকরি Logo উত্তরণ ক্রীড়া সংসদের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী Logo কাদের গনি চৌধুরীকে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক নিয়োগে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন Logo ধোলাইপাড়ে বিভিন্ন ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন
বিশেষ ব্যবস্থায় ইডিসিএলে ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ পদে চাকরি, ২ আগস্ট যোগদান

দৃষ্টিকে হার মানিয়ে শারমিনের স্বপ্নজয়

দৃষ্টিশক্তি নেই, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে হার মানতে দেননি সাতক্ষীরার শারমিন আক্তার। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার সিঁড়ি পেরিয়ে এবার শুরু হলো তার কর্মজীবন। বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। আগামী ২ আগস্ট নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই তরুণী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শারমিন আক্তারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীর কাছে চাকরির আবেদন, ৪ দিনের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

গত ২৬ জুলাই সাতক্ষীরা জেলায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শারমিন আক্তার। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক অসচ্ছলতার কথা তুলে ধরে তিনি মন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন জানান। তার পরিস্থিতি শুনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নিল। সরকারি উদ্যোগে ইডিসিএলে ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো শারমিনকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মেয়ে শারমিন আক্তার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা তার শিক্ষাজীবনের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

তবে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সংকট এবং কর্মক্ষম সদস্য না থাকায় চাকরিটি ছিল তার জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

‘ওয়াদা করেছিলাম, সেই ওয়াদা রেখেছি’

শারমিনের নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শারমিন অত্যন্ত অসহায়। তার পরিবারে কর্মক্ষম কেউ নেই। একই সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তার পরিবারের অবস্থা জানার পর তিনি শারমিনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “তাকে ইডিসিএলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছয় মাস শিক্ষানবিশকাল পার করার পর তার চাকরি স্থায়ী হবে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”

কৃতজ্ঞ শারমিন

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত শারমিন আক্তার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তার এই নিয়োগ শুধু একটি চাকরি পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা এক তরুণীর দীর্ঘ সংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে শিক্ষা অর্জনের পর এবার কর্মক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান শারমিন।

আগামী ২ আগস্ট ইডিসিএলে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তার নতুন পথচলা। ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল শেষে চাকরি স্থায়ী হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে শারমিনের।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দখল-দূষণের খাল ফিরল প্রাণে, আন্তর্জাতিক পুরস্কার নারায়ণগঞ্জের

বিশেষ ব্যবস্থায় ইডিসিএলে ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ পদে চাকরি, ২ আগস্ট যোগদান

দৃষ্টিকে হার মানিয়ে শারমিনের স্বপ্নজয়

আপডেট সময় : ০৪:১১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দৃষ্টিশক্তি নেই, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে হার মানতে দেননি সাতক্ষীরার শারমিন আক্তার। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার সিঁড়ি পেরিয়ে এবার শুরু হলো তার কর্মজীবন। বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। আগামী ২ আগস্ট নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই তরুণী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শারমিন আক্তারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীর কাছে চাকরির আবেদন, ৪ দিনের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

গত ২৬ জুলাই সাতক্ষীরা জেলায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শারমিন আক্তার। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক অসচ্ছলতার কথা তুলে ধরে তিনি মন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন জানান। তার পরিস্থিতি শুনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নিল। সরকারি উদ্যোগে ইডিসিএলে ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো শারমিনকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের মেয়ে শারমিন আক্তার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা তার শিক্ষাজীবনের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

তবে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সংকট এবং কর্মক্ষম সদস্য না থাকায় চাকরিটি ছিল তার জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

‘ওয়াদা করেছিলাম, সেই ওয়াদা রেখেছি’

শারমিনের নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শারমিন অত্যন্ত অসহায়। তার পরিবারে কর্মক্ষম কেউ নেই। একই সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তার পরিবারের অবস্থা জানার পর তিনি শারমিনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “তাকে ইডিসিএলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছয় মাস শিক্ষানবিশকাল পার করার পর তার চাকরি স্থায়ী হবে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”

কৃতজ্ঞ শারমিন

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত শারমিন আক্তার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তার এই নিয়োগ শুধু একটি চাকরি পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা এক তরুণীর দীর্ঘ সংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে শিক্ষা অর্জনের পর এবার কর্মক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান শারমিন।

আগামী ২ আগস্ট ইডিসিএলে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তার নতুন পথচলা। ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল শেষে চাকরি স্থায়ী হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে শারমিনের।