সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খিলগাঁওয়ে পল্লীমা সংসদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ‘পল্লীমা গ্রীন স্বর্ণ পদক ২০২৫’ প্রদান Logo এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছা Logo ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী Logo এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আঃ কাঃ মোঃ আশরাফুজ্জামান নিয়োগ পেলেন Logo ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে আধুনিক এনডোস্কপি ও কোলনোস্কপি পরীক্ষা চালু Logo ফরিদগঞ্জে সমাজসেবক ও সাবেক গ্রাম সরকার মো. খাজে আহমাদ মিয়াজির ইন্তেকাল Logo চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান Logo ওষুধের মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্যের আহ্বান: জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না — স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo দেশে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্কের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল Logo সুস্থ জীবন ও স্বাবলম্বিতার বার্তা নিয়ে “ন্যাচারাল ভারটেক্স”-এর কর্মশালা

বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কিডনী রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছন কিডনি বিশেষজ্ঞরা। আজ ৮ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ (সাবেক পিজি হাসপাতাল) এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গন বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এ কথা বলেন।

কিডনি দিবসকে সামনে রেখে আজকের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। এসময় বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সদস্য সচিব ডা. মোঃ ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ রেজাউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বলেন, কিডনি নীরবঘাতক। উপসর্গ দেখার আগেই কিডনির নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। কিডনী রোগের চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসিস, ট্রান্সপ্ল্যান্ট অনেক ব্যয়বহুল। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। তাই শুরুতেই কিডনী রোগ চিহ্নিত করা উচিত। কিডনি রোগ শুরুতে চিহ্নিত করা গেলে এ রোগ নিরাময়, নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নাই। সে কারণেই আজকে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হলো। কিডনী রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

সদস্য সচিব ডা. মোঃ ফরহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, গত এক দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দিগুণ হয়েছে। কিডনি রোগের উপসর্গ নিয়ে যখন রোগী চিকিৎসকের কাছে যান তখন তার কিডনী তিন ভাগের এক ভাগ অকার্যকর হয়ে যায়। তখন রোগ নিরাময়, নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বছরে একবার হলেও কিডনী রোগের পরীক্ষা করা উচিত। ইউরিন আর ই, ক্রিয়েটিনিন এর মতো সাধারণ পরীক্ষা ২ শত থেকে ৩ শত টাকা খরচ করলেই কিডনীতে সমস্যা আছে কিনা তা জানা যায়। জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, কিডনি মানব দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের শরীরে বিপাকের মাধ্যমে যে ময়লা ও দূষিত পদার্থ তৈরি হয় তা কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সাহায্যে বের হয়ে যায়। কিডনিকে সুস্থ রাখা এবং কিডনি রোগীদের জন্য সাহায্য ও সমর্থনের আর্শীবাদ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ নেফ্রলজি (আইএসএন) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর কিডনি ফাউন্ডেশন (আইএফকেএফ) এর যৌথ উদ্যোগে সারা পৃথিবীব্যাপী মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার কিডনি দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যতেœ বাঁচাও ধরণীরে।”

তারা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮টি স্টাডির উপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী গত ১ দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই মহামারিতে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার যে ক্ষমতা, সে অনুযায়ী এই নতুন রোগীদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে ট্রান্সপ্লান্ট, ডায়ালাইসিস এবং অন্যান্য চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তার মানে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। শুধু যে বাংলাদেশে এই কিডনি রোগের সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, সারা পৃথিবীব্যাপী বর্তমানে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুই যুগ আগে মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ ছিল ২৭তম স্থানে। বর্তমানে এটির স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মোটে কাম্য নয়।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খিলগাঁওয়ে পল্লীমা সংসদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ‘পল্লীমা গ্রীন স্বর্ণ পদক ২০২৫’ প্রদান

বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কিডনী রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৯:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছন কিডনি বিশেষজ্ঞরা। আজ ৮ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ (সাবেক পিজি হাসপাতাল) এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গন বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এ কথা বলেন।

কিডনি দিবসকে সামনে রেখে আজকের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। এসময় বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সদস্য সচিব ডা. মোঃ ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোঃ রেজাউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বলেন, কিডনি নীরবঘাতক। উপসর্গ দেখার আগেই কিডনির নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। কিডনী রোগের চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসিস, ট্রান্সপ্ল্যান্ট অনেক ব্যয়বহুল। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। তাই শুরুতেই কিডনী রোগ চিহ্নিত করা উচিত। কিডনি রোগ শুরুতে চিহ্নিত করা গেলে এ রোগ নিরাময়, নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনা সৃষ্টির বিকল্প নাই। সে কারণেই আজকে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমান ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হলো। কিডনী রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

সদস্য সচিব ডা. মোঃ ফরহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, গত এক দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দিগুণ হয়েছে। কিডনি রোগের উপসর্গ নিয়ে যখন রোগী চিকিৎসকের কাছে যান তখন তার কিডনী তিন ভাগের এক ভাগ অকার্যকর হয়ে যায়। তখন রোগ নিরাময়, নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বছরে একবার হলেও কিডনী রোগের পরীক্ষা করা উচিত। ইউরিন আর ই, ক্রিয়েটিনিন এর মতো সাধারণ পরীক্ষা ২ শত থেকে ৩ শত টাকা খরচ করলেই কিডনীতে সমস্যা আছে কিনা তা জানা যায়। জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, কিডনি মানব দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের শরীরে বিপাকের মাধ্যমে যে ময়লা ও দূষিত পদার্থ তৈরি হয় তা কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সাহায্যে বের হয়ে যায়। কিডনিকে সুস্থ রাখা এবং কিডনি রোগীদের জন্য সাহায্য ও সমর্থনের আর্শীবাদ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ নেফ্রলজি (আইএসএন) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর কিডনি ফাউন্ডেশন (আইএফকেএফ) এর যৌথ উদ্যোগে সারা পৃথিবীব্যাপী মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার কিডনি দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যতেœ বাঁচাও ধরণীরে।”

তারা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮টি স্টাডির উপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী গত ১ দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই মহামারিতে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার যে ক্ষমতা, সে অনুযায়ী এই নতুন রোগীদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে ট্রান্সপ্লান্ট, ডায়ালাইসিস এবং অন্যান্য চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তার মানে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। শুধু যে বাংলাদেশে এই কিডনি রোগের সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, সারা পৃথিবীব্যাপী বর্তমানে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুই যুগ আগে মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ ছিল ২৭তম স্থানে। বর্তমানে এটির স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মোটে কাম্য নয়।