সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অসংখ্য হাফেজ গড়ার কারিগর হাফেজ মো. রুহুল আমিন আর নেই Logo সিধুচী হিযবুল্লাহ মহিলা আলিম মাদ্রাসায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় পরিবেশ সচেতনতা ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত Logo বরিশালে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ম্যাগনেসা লিডারশিপ কনফারেন্স Logo শিক্ষা উন্নয়নে নতুন দায়িত্বে ইসমাইল তালুকদার খোকন, প্রতিমন্ত্রী হাবিবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা Logo বর্ণমালা আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- আসাদুল হাবিব দুলু এমপি Logo মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে মুগদায় বিক্ষোভ মিছিল; অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব Logo চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রো-ভিসিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ, হিলবটম কলোনী Logo দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চুক্তি স্বাক্ষর Logo মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এমপি মনোনীত

শিশু রাইফার মৃত্যু, চার চিকিৎসককে আসামি করে থানায় এজাহার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮
  • ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে

 

চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের গাফিলতিতে শিশু রাফিদা খান রাইফার মৃত্যু ঘটনায় এবার তার বাবা রুবেল খান থানায় মামলার আবেদন করেছেন। বুধবার বিকালে দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল চার চিকিৎসককে আসামি করে চকবাজার থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। চার চিকিৎসক হলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায় চৌধুরী, ম্যাক্স হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক দেবাশীষ সেন গুপ্ত, শুভ্র দেব ও ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, আমরা এজাহারটি নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর মামলাটি গ্রহণ করব। এজাহারে রুবেল খান অভিযোগ করেন, চার চিকিৎসকের অবহেলা ও গাফিলতিতে রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় না হওয়া এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও অতিরিক্ত মাত্রায় সেডিল প্রয়োগের কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবায়েটিকে আড়াই বছর বয়সী রাইফার শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হলেও তা বারবার প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে ওষুধের আলামতও নষ্ট করে দেয়া হয়। রুবেল দাবি করেছেন, এসব অ্যান্টিবায়োটিক মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, তা যাচাই করতে সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও চিকিৎসকরা তা সরিয়ে ফেলেন। এই সাংবাদিকের দাবি, আলামত নষ্টের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই ধরনের মৃত্যু সনদও দিয়েছিল। গলায় ব্যথা হওয়ায় রাইফাকে গত ২৮ জুন বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ডা. বিধান রায়ের অধীনে তার চিকিৎসা চলছিল। ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু হয়। এদিকে রাইফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি করে দেয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের প্রতিবেদন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটির কথা তুলে ধরে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবকে বরখাস্ত করে। তবে বিধান রায় তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারার কথা জানিয়ে বলে, এই চিকিৎসককে আর হাসপাতালে ডাকবেন না তারা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অসংখ্য হাফেজ গড়ার কারিগর হাফেজ মো. রুহুল আমিন আর নেই

শিশু রাইফার মৃত্যু, চার চিকিৎসককে আসামি করে থানায় এজাহার

আপডেট সময় : ০৩:২০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮

 

চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের গাফিলতিতে শিশু রাফিদা খান রাইফার মৃত্যু ঘটনায় এবার তার বাবা রুবেল খান থানায় মামলার আবেদন করেছেন। বুধবার বিকালে দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল চার চিকিৎসককে আসামি করে চকবাজার থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। চার চিকিৎসক হলেন, শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায় চৌধুরী, ম্যাক্স হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক দেবাশীষ সেন গুপ্ত, শুভ্র দেব ও ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, আমরা এজাহারটি নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর মামলাটি গ্রহণ করব। এজাহারে রুবেল খান অভিযোগ করেন, চার চিকিৎসকের অবহেলা ও গাফিলতিতে রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় না হওয়া এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও অতিরিক্ত মাত্রায় সেডিল প্রয়োগের কারণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবায়েটিকে আড়াই বছর বয়সী রাইফার শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হলেও তা বারবার প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে ওষুধের আলামতও নষ্ট করে দেয়া হয়। রুবেল দাবি করেছেন, এসব অ্যান্টিবায়োটিক মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, তা যাচাই করতে সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও চিকিৎসকরা তা সরিয়ে ফেলেন। এই সাংবাদিকের দাবি, আলামত নষ্টের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই ধরনের মৃত্যু সনদও দিয়েছিল। গলায় ব্যথা হওয়ায় রাইফাকে গত ২৮ জুন বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ডা. বিধান রায়ের অধীনে তার চিকিৎসা চলছিল। ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু হয়। এদিকে রাইফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি কমিটি করে দেয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের প্রতিবেদন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটির কথা তুলে ধরে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেবকে বরখাস্ত করে। তবে বিধান রায় তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারার কথা জানিয়ে বলে, এই চিকিৎসককে আর হাসপাতালে ডাকবেন না তারা।