সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খিলগাঁওয়ে পল্লীমা সংসদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ‘পল্লীমা গ্রীন স্বর্ণ পদক ২০২৫’ প্রদান Logo এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফুলেল শুভেচ্ছা Logo ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী Logo এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আঃ কাঃ মোঃ আশরাফুজ্জামান নিয়োগ পেলেন Logo ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে আধুনিক এনডোস্কপি ও কোলনোস্কপি পরীক্ষা চালু Logo ফরিদগঞ্জে সমাজসেবক ও সাবেক গ্রাম সরকার মো. খাজে আহমাদ মিয়াজির ইন্তেকাল Logo চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান Logo ওষুধের মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্যের আহ্বান: জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না — স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo দেশে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্কের টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদনে যাচ্ছে ইডিসিএল Logo সুস্থ জীবন ও স্বাবলম্বিতার বার্তা নিয়ে “ন্যাচারাল ভারটেক্স”-এর কর্মশালা

রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বলি আদমজী জুট মিলস : বন্ধের ১৭ বছর আজ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯
  • ৬৮২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : ২০০২ সালের ৩০ শে জুন। দিনটি আর দশটি সাধারন মানুষের জন্য একটি সাধারন দিন হিসেবেই কেটে গিয়ে ছিলো। কিন্তু ব্যাতিক্রম ছিলো আদমজী বাসীর জন্য। তাদের জন্য দিনটি ছিলো বেদনাদায়ক এবং স্বপ্ন ভঙ্গের দিন। কারন ঐদিন তাদের স্বপ্ন এবং ভালোবাসায় ঘেরা আদমজী জুট মিলস বন্ধ ঘোষনা করা হয়। বেকার হয়ে যায় আদমজীতে কর্মরত ২৪ হাজার ৯ শত ১৬ জন কর্মকর্তা এবং কর্মচারী। বন্ধের সময় তাদের পাওনা ৩৫ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হলেও তাদের কষ্টের তুলনায় এই পাওনা ছিলো অতিশয় নগন্য। আদমজী জুট মিলস এর যাত্রার ইতিহাসটা যতটা সুখকর ছিলো, বন্ধের ইতিহাসটা তার চাইতেও শতগুন যন্ত্রনাদায়ক ছিলো। পাকিস্তানের ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই মিলে আদমজী জুট মিলস গড়ে তুলেন। ১৯৫১ সালের ১২ই ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সুমিলপাড়ায় ২৯৭ একর জমির উপর গড়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি। ১৭০০ হেসিয়ান এবং ১০০০ সেকিং লুম নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রা শুরুর পর থেকেই ব্যবসা সফল হয় প্রতিষ্ঠানটি। তখনকার সময়ে আদমজী জুট মিলস এর মাধ্যমে প্রতি বছর ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো বাংলাদেশ। ব্যবসা সফল এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রপতির আদেশে ১৯৭৪ সালের ২৬ শে মার্চ জাতীয় করন করা হয়। তখন আদমজী জুট মিলস এর বার্ষিক উৎপাদনের মূল্যমান ছিলো ২১০ কোটি টাকা। এত সফলতার পরেও লোকসান এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় মিলটি। আদমজী জুট মিলস কে কেন্দ্র করে ঐসময়ে আদমজী এলাকার আশে-পাশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে ছিলো। তাই লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান ঘটেছিলো সে সময়। যে অজুহাতেই মিলটি বন্ধ হউক না কেন আসলে রাজনৈকিত বলির পাঠা হয় এশিয়া মহাদেশের সর্ব বৃহৎ জুট মিল আদমজী জুট মিলস। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসা পরই মিলটি বন্ধ করে দেওয়ার পায়তারা করা হয়। যার বাস্তবায়ন ঘটে ২০০২ সালের ৩০ শে জুন। আগাম কোন ঘোষনা ছাড়াই মিলটি বন্ধ করে দেওয়াতে অনেকে আদমজীর শোক ভুলতে না পেরে চিরতরে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মিল বন্ধের দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও আজও কান্না থামেনি আদমজীর সেসব মানুষের, যারা শৈশর, কৈশর কাটিয়েছেন আদমজীতে। আদমজীর মানুষের আজও নিরবে হদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। শুধু যে লক্ষ লক্ষ লোক বেকার হয়েছে তাই নয়, আকস্মিক ভাবে মিলটি বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলো। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত অন্ধকারে ঢেকে গিয়ে ছিলো। অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ছিলো আদমজীবাসী। আদমজীতে কাটানো প্রতিটি মূহূর্তের স্মৃতি আদমজীবাসীর মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। হয়তো তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে না তবুও আদমজীর প্রতি তাদের ভালোবাসা চির অক্ষয়।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খিলগাঁওয়ে পল্লীমা সংসদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ‘পল্লীমা গ্রীন স্বর্ণ পদক ২০২৫’ প্রদান

রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বলি আদমজী জুট মিলস : বন্ধের ১৭ বছর আজ

আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : ২০০২ সালের ৩০ শে জুন। দিনটি আর দশটি সাধারন মানুষের জন্য একটি সাধারন দিন হিসেবেই কেটে গিয়ে ছিলো। কিন্তু ব্যাতিক্রম ছিলো আদমজী বাসীর জন্য। তাদের জন্য দিনটি ছিলো বেদনাদায়ক এবং স্বপ্ন ভঙ্গের দিন। কারন ঐদিন তাদের স্বপ্ন এবং ভালোবাসায় ঘেরা আদমজী জুট মিলস বন্ধ ঘোষনা করা হয়। বেকার হয়ে যায় আদমজীতে কর্মরত ২৪ হাজার ৯ শত ১৬ জন কর্মকর্তা এবং কর্মচারী। বন্ধের সময় তাদের পাওনা ৩৫ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হলেও তাদের কষ্টের তুলনায় এই পাওনা ছিলো অতিশয় নগন্য। আদমজী জুট মিলস এর যাত্রার ইতিহাসটা যতটা সুখকর ছিলো, বন্ধের ইতিহাসটা তার চাইতেও শতগুন যন্ত্রনাদায়ক ছিলো। পাকিস্তানের ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই মিলে আদমজী জুট মিলস গড়ে তুলেন। ১৯৫১ সালের ১২ই ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সুমিলপাড়ায় ২৯৭ একর জমির উপর গড়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি। ১৭০০ হেসিয়ান এবং ১০০০ সেকিং লুম নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। যাত্রা শুরুর পর থেকেই ব্যবসা সফল হয় প্রতিষ্ঠানটি। তখনকার সময়ে আদমজী জুট মিলস এর মাধ্যমে প্রতি বছর ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো বাংলাদেশ। ব্যবসা সফল এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রপতির আদেশে ১৯৭৪ সালের ২৬ শে মার্চ জাতীয় করন করা হয়। তখন আদমজী জুট মিলস এর বার্ষিক উৎপাদনের মূল্যমান ছিলো ২১০ কোটি টাকা। এত সফলতার পরেও লোকসান এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় মিলটি। আদমজী জুট মিলস কে কেন্দ্র করে ঐসময়ে আদমজী এলাকার আশে-পাশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে ছিলো। তাই লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান ঘটেছিলো সে সময়। যে অজুহাতেই মিলটি বন্ধ হউক না কেন আসলে রাজনৈকিত বলির পাঠা হয় এশিয়া মহাদেশের সর্ব বৃহৎ জুট মিল আদমজী জুট মিলস। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসা পরই মিলটি বন্ধ করে দেওয়ার পায়তারা করা হয়। যার বাস্তবায়ন ঘটে ২০০২ সালের ৩০ শে জুন। আগাম কোন ঘোষনা ছাড়াই মিলটি বন্ধ করে দেওয়াতে অনেকে আদমজীর শোক ভুলতে না পেরে চিরতরে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মিল বন্ধের দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও আজও কান্না থামেনি আদমজীর সেসব মানুষের, যারা শৈশর, কৈশর কাটিয়েছেন আদমজীতে। আদমজীর মানুষের আজও নিরবে হদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। শুধু যে লক্ষ লক্ষ লোক বেকার হয়েছে তাই নয়, আকস্মিক ভাবে মিলটি বন্ধ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলো। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত অন্ধকারে ঢেকে গিয়ে ছিলো। অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ছিলো আদমজীবাসী। আদমজীতে কাটানো প্রতিটি মূহূর্তের স্মৃতি আদমজীবাসীর মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। হয়তো তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে না তবুও আদমজীর প্রতি তাদের ভালোবাসা চির অক্ষয়।