২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাঁদের নিয়োগপত্র তুলে দেন।
নিয়োগপত্র হস্তান্তরের পর শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের পারিবারিক পরিস্থিতি, বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা—যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি বলেন, “যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল—সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বাস্তবতার নিরিখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, কী পাওয়া গেল সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়; বরং দেশকে কী দেওয়া গেল, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
যাঁরা পেলেন নিয়োগপত্র
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চাকরির নিয়োগপত্র পাওয়া ১০ জন হলেন—শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।
এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারও চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
আত্মত্যাগের মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন কিংবা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদান রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন।
চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এই নিয়োগ শুধু একটি চাকরি নয়, বরং কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে রাষ্ট্রের দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 











